Home এইমাত্র স্বপ্ন দেখার সময় কই, ঘুমের সময় নেই: সালমান

স্বপ্ন দেখার সময় কই, ঘুমের সময় নেই: সালমান

12
0
SHARE

তিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে গড়েন। নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়া আর সেখানে নিজেকে প্রমাণ করা যেন প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করেছেন। তাঁর ছবির বক্স অফিসের আয় পেছনে ফেলে দেয় তাঁকে নিয়ে সব সমালোচনাকে। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। তিনি সালমান খান। প্রতিটি চলচ্চিত্রে তাঁকে দেখা যায় নতুন নতুন রঙে। সর্বশেষ ‘ভারত’ ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে ২৭ থেকে ৭২ বছর বয়সী পাঁচটি চরিত্রে। নিজের জীবন, দর্শন, চলচ্চিত্র—সবকিছু নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ফিল্মফেয়ারের সঙ্গে।

‘ভারত’ (২০১৯) কেন স্পেশাল?
‘ভারত’কে অন্য সব ছবি থেকে আলাদা করেছে এর প্লট। একজন ৯ বছর বয়সী বালকের ছোট্ট কাঁধে মা আর বোনের দায়িত্ব দিচ্ছেন তাঁর বাবা। তখন থেকে ৭২ বছর পর্যন্ত সেই মানুষটি তাঁর পরিবারকে আগলে রেখেছে। কোনো না কোনো ভাবে এই গল্প আপনার জীবনের সঙ্গে মিলে যাবে। যদিও আমার ক্ষেত্রে বিপরীত। আমার পরিবার আমাকে পুরোটা সময় আগলে রেখেছে।

সালমান খান‘ভারত’ ছবিতে পাঁচটি ভিন্ন বয়সের চরিত্রে অভিনয় করা কতটা কঠিন মনে হয়েছে?
অবশ্যই কঠিন। কঠিন এবং আনন্দের। ২৭ বছর বয়সের চরিত্রের জন্য আমাকে ওজন কমাতে হয়েছে। আবার ৫৫ বছর বয়সীর জন্য ওজন বাড়াতে হয়েছে। এই দুই চরিত্রের ওজনের পার্থক্য ১৫ কেজি। তারপর আবার আমাকে ২৭ বছরের চরিত্রের জন্য ওজন কমাতে হয়েছে। কারণ, একবারে ওই বয়সের সব সিকোয়েন্স নেওয়া সম্ভব ছিল না। রেফারেন্স হিসেবে আমার পুরোনো কিছু ছবি দেখেছিলাম। উফফফ, আমি কত অদ্ভুত ছিলাম!

অদ্ভুত কেন?
নিষ্পাপ চেহারার তরুণ আমি। সেই আমি তো হারিয়ে গেছি। ‘নিশ্চয়’, ‘জাগরুতি’, ‘চন্দ্রমুখী’, ‘চাঁদ কা টুকরা’, ‘ওহ গড’ ছবির সেই জ্যাকেট—এসবে আমি এক রকম। আবার ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবিতে আমি অন্য রকম। এই ভিন্নতা ধরতে পেরে ‘ভারত’ ছবির পাঁচ বছর বয়সের আমিকে আলাদা করেছি।

এই ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অভিনয়ের কথা ছিল। পরে ক্যাটরিনা কাইফ অভিনয় করেছেন। প্রিয়াঙ্কার জায়গায় ক্যাটরিনা আপনার কাছে যথাযথ মনে হয়েছে?
ওই চরিত্রের জন্য পরিচালক আলী আব্বাস জাফর আর আমি কিন্তু প্রথমে ক্যাটরিনা কাইফকে নিতে চেয়েছি। কিন্তু আলী পরে জানাল, সে ক্যাটরিনার বিষয়ে নিশ্চিত না। একেবারেই ভারতীয় নারীর চরিত্রে ক্যাটরিনা বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আমি বললাম, তুমি আগে ওর সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করেছ। তোমার কি ওকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কোনো কমতি আছে? ক্যাটরিনা ২০ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে দাপটের সঙ্গে টিকে আছে। সে ‘রাজনীতি’র মতো ছবি করেছে। কিন্তু প্রিয়াঙ্কাও এই ছবিটা করতে চেয়েছিল। প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে আমার বোন অর্পিতার খুব ভাব। ও অর্পিতাকে বলেছিল। পরে যখন প্রিয়াঙ্কার একপাশে ‘ভারত’ আর আরেক পাশে নিক জোনাসের সঙ্গে বিয়ে, তখন সে ‘ভারত’ ছেড়ে নিক জোনাসকে বিয়ে করে। এভাবেই ক্যাটরিনা তাঁর স্বপ্নের চরিত্র পেয়ে গেল।

সালমান খানপ্রিয়াঙ্কা যে ছবি করবেন না, এটা আপনি কীভাবে জানলেন?
ছবির শুটিং শুরু হওয়ার পাঁচ দিন আগে তা বুঝতে পারে প্রিয়াঙ্কা। আমার বাসায় এসে জানায়, সে বিয়ে করতে যাচ্ছে। আমি বললাম, বিয়ের চার/পাঁচ দিন আমরা মানিয়ে নেব। তখন সে বলল, তাঁর বিয়ের পোশাক কিছুই তৈরি হয়নি। আমি বললাম, ডিজাইনার তো আছেই। সে দেখবে। তখন সে বলল, বিয়ের দিন তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। অনেক কাজ বাকি। এত বড় ছবি। অন্য কেউ হলে বলত, আগে ছবি করি, বিয়ে সামনের বছর সারব। কিন্তু না, সে ঠিক করল, সে বিয়েই করবে। সে অভিনয়শিল্পী হিসেবে অত্যন্ত পরিশ্রমী আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে খুব সচেতন। তাই সে যখন ছবি ফেলে বিয়ে বেছে নিল, এটা দুর্দান্ত সিদ্ধান্ত।

আপনি বলেছেন, এই ছবির জন্য ক্যাটরিনার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া উচিত।
ও (ক্যাটরিনা) আমাকে এসে বলেছে, ‘তুমি যেভাবে আমার জাতীয় পুরস্কারের বাদ্য বাড়াচ্ছ, সবাই হাসাহাসি করছে। মজা হিসেবে নিচ্ছে।’ আমি বলেছি, আমি সিরিয়াসলি বলেছি। আমি তা-ই বিশ্বাস করি। তাই বারবার বলেছি।

এই ছবিতে ক্যাটরিনা আপনাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়। বাস্তবে কোনো মেয়ে আপনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে?
এখন পর্যন্ত না। কারণ আমি ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে যাই না। মোমের আলোয় আমি কী খাচ্ছি, তা দেখতে পাই না।

এই ছবি নিয়ে আপনি নাকি নার্ভাস ছিলেন?
আমাকে বলা হয়েছিল, নায়কের যদি টাক মাথা হয়, তাহলে সে আর নায়ক থাকে না। ‘তেরে নাম’ ছবিতে আমি মাথার সব চুল কামিয়ে ফেলেছিলাম। বলিউডে সেই প্রথম বড় পর্দায় কোনো নায়ক টাক হয়। এরপরও একাধিকবার আমি এই কাজ করেছি। হ্যাঁ, প্রতিবারই নার্ভাস ছিলাম। আর প্রতিবারই আমি সফল হয়েছি।

সালমান খানআপনার মা সালমা খান বলেছেন, ছবিতে ৭২ বয়সীর চরিত্রে আপনাকে খুব সুদর্শন লেগেছে।
সত্যি? মা তা-ই বলেছেন! তাঁর স্বামীকেই (সালমান খানের বাবা সেলিম খান) দেখুন না। ৮৪ তেও কত সুদর্শন।

বক্স অফিসের সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকেরাও আপনার ছবির প্রশংসা করেছেন।
আমার ছবির কে প্রশংসা করল আর কে করল না, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। যাঁরা পাঁচ বা এক স্টার দেয়, তাঁরা কোনো দিন একটা ছবি বানায়নি। অভিনয়ও করেনি। তাঁরা যা ইচ্ছা বলুক। তবে আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো ছবিকে যেন তাচ্ছিল্য করা না হয়। দর্শককেই বিচারের ভার দেওয়া উচিত। সমালোচকদের রিভিউয়ে ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আজ একটা ছোট্ট ছবিও ২৫ থেকে ৩০ কোটি রুপি খরচ করে বানানো হয়। প্রযোজককে তো সেটা তুলে আনতে হবে।

আপনার মধ্যে কখনো তারকাখ্যাতি হারানোর ভয় কাজ করে?
সময়ের সঙ্গে তারকাখ্যাতি হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময় ধরে তারকাখ্যাতি ধরে রাখা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। শাহরুখ, আমির, অক্ষয়, আজয়রা সেটা পেরেছেন। আমরা চেষ্টা করছি। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই আমাদের বক্স অফিসের সংখ্যাও কমতে থাকবে।

আপনি একবার বলেছেন, আপনার মনের বয়স ২৭, শরীরের বয়স যা-ই হোক না কেন।
আপনি যা-ই করেন না কেন, সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়ার জন্য আপনার হৃদয়কে তরুণ রাখতে হবে। যখন ভাববেন, আপনি বুড়ো হয়ে গেছেন; তখন বার্ধক্য আপনাকে চেপে ধরবে।

সালমান খানবয়স বাড়ছে। খারাপ লাগে?
বয়স বাড়া সবার জন্য ভীতিকর। আপনাকে আরও পরিশ্রমী হতে হবে। আপনাকে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। তরুণ আপনি যেমন এলোমেলো ছিলেন, এখন আর সেই সুযোগ নেই। অনিল কাপুর বা অমিতাভ বচ্চনদের কখনো বুড়ো হতে দেখিনি। তবে সবাইকে বয়সের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

এই বয়সে এত এনার্জি ধরে রাখেন কীভাবে?
এটা মোটেও সহজ না। আমি বেশি ঘুমাই না। যদি রাতে না লিখি, ছবি না আঁকি আর দ্রুত ঘুমিয়ে যাই, সেটিই ভালো। কিন্তু তা আর হয় কই! সকালে উঠে আমি কফি খাই, ব্যায়াম করি, সাইকেল চালাই।

নিজেকে নিয়ে এমন একটা বিষয় বলেন, যা খুব বেশি মানুষ জানে না।
আমি বেশি ঘুমাই না। দুই, আড়াই বা তিন ঘণ্টা ঘুমাই। আমি রাতে লিখি, ছবি আঁকি, টিভি দেখি। আমি রিমোট দিয়ে বসে বসে চ্যানেল পাল্টানো মোটেও পছন্দ করি না। যদি বিজ্ঞাপন হয় বা দক্ষিণ ভারতীয় কোনো চ্যানেল চলে, তাও মন দিয়ে দেখি। ইদানীং ওয়েব সিরিজ আমাকে বেশ টানছে।

সর্বশেষ কী ছবি দেখেছেন?
আমি ‘গেম অব থ্রোনস’ ওয়েব সিরিজের ১৪ সিজন পর্যন্ত টানা দেখেছি। কিন্তু কাজের চাপে আপাতত ওয়েব সিরিজ দেখা বন্ধ রেখেছি। এবার পুরাটা দেখব। ‘ভাইকিংস’ দেখে শেষ করেছি। দুর্দান্ত।

ওয়েব সিরিজ প্রযোজনা করবেন?
ইচ্ছা আছে। আমি টেলিভিশনে প্রযোজনা করি টাকার বাচ্চা ফুটানোর জন্য না। যাতে আরও প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলী এই ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হয়, সে জন্য।

ক্যাটরিনা বলেছেন, আপনি নির্ভীক। আপনার এই গুণ তাঁর ভালো লাগে।
আমি নির্ভীক নই। অনেক কিছু আছে, যেগুলো আমি কেয়ার করি। আবার এমন অনেক কিছু আছে, যাতে আমার কিছু আসে যায় না। একে নির্ভীক হওয়া বলে না।

এমন কোনো স্বপ্ন আছে, যা পূরণ হয়নি?
স্বপ্ন দেখার সময় কোথায়, ঘুমের সময় পাই না।