Home অর্থ-বাণিজ্য এক অঙ্কের সুদহার নিশ্চিত করতে হবে

এক অঙ্কের সুদহার নিশ্চিত করতে হবে

9
0
SHARE

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যাংককে এক অঙ্কের সুদহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনটির প্রত্যাশা, অবিলম্বে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এক অঙ্কের সুদহার কার্যকর করবে। এছাড়া বিনিয়োগের প্রধান বাধা খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জোর চেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়। সদ্য ঘোষিত মুদ্রানীতির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এসব বিষয় উল্লেখ করে শনিবার বিবৃতি দিয়েছে এফবিসিসিআই।

এতে বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর সমালোচনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেয়ায় এ খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ধরা হয়েছিল সাড়ে ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্য বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ।

এফবিসিসিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থবছরের সঙ্গে মিল রেখে এক বছর মেয়াদি মুদ্রানীতি প্রণীত হওয়ায় মুদ্রানীতি এবং বাজেট ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় থাকবে। তবে উচ্চতর প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে ব্যবসাবান্ধব মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। এফবিসিসিআই আরও বলেছে, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। সহজলভ্য ঋণপ্রবাহ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন সম্ভব নয়। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে দেয়ায় এ খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হতে পারে, যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত ও বাধাগ্রস্ত করবে।

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারপরও বিনিয়োগের স্বার্থে এ খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমানো সঙ্গত নয়।

এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে মুদ্রানীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে পর্যবেক্ষণে জোর দেয়ার তাগিদও দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সুদের হার কমানোর অনুরোধও জানানো হয়। বলা হয়, জাতীয় উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যাংককে এক অঙ্কের (সিঙ্গেল ডিজিট) সুদহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এখনও প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুদের হার এক অঙ্কের উপরে রেখেছে।

ব্যাংকিং খাতে ননপারফর্মিং লোন বা খেলাপি ঋণের বিষয়টি একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্বিষহ বোঝা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রচেষ্টা আরও বাড়াতে হবে।

এছাড়া দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড এবং পেপারলেস ব্যাংকিং কার্যক্রমে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছ, যুগোপযোগী ও আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং ও সুপারভিশনকে আরও নিবিড় ও জোরদার করার আহ্বান জানায় এফবিসিসিআই।