Home আইন আদালত মা সাক্ষী দেয়ায় মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা: আসামিদের দাপটে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদী

মা সাক্ষী দেয়ায় মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা: আসামিদের দাপটে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদী

25
0
SHARE

ছাত্রী ধর্ষণ মামলার সাক্ষী হওয়ায় নিজের মেয়েকে হারিয়েছেন তাসলিমা বেগম। আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার মেয়েকে গণধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। সেই আসামিরা এখন এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাসলিমা। গত বছরের ২৪ অক্টোবর পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সামুদাফাৎ গ্রামে রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসীরা তার মেয়ে সীমাকে গণধর্ষণের পর নৃসংশভাবে হত্যা করে। এ নিয়ে মামলা করে বিপদে পড়েন তাসলিমা। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।

তাসলিমা বলেন, ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল রাতে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে পুকুরে ফেলে দেয় সুমন চৌকিদার ও দানেশ চৌকিদার। ওই মামলায় সাক্ষী দিয়ে বিপদে পড়েন তিনি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়–য়া তার মেয়েকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। কিন্তু ওই হত্যার ঘটনায় রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নেয়নি। পরে পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি রাঙ্গাবালী থানায় মামলা রেকর্ড হয়। এতে আসামি করা হয় সুমন চৌকিদার, দানেশ চৌকিদার, সেরাজুল চৌকিদার, মো. নবীনুর, ছাদের চৌকিদার, ইমরান চৌকিদার, রাকিব চৌকিদার, মোফাজ্জেল হোসেনকে। মামলার পর থেকেই আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে।
চলতি বছরের ১ জুলাই তাসলিমা বেগমের ঘরে ঢুকে তার স্বামী ও সন্তানকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় ৩ জুলাই গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশি আবেদন করলে আদালত মামলাটি এজাহারভুক্ত করার জন্য রাঙ্গাবালী থানাকে আদেশ দেন। তবে তাসলিমার অভিযোগ পুলিশ এখনও মামলাটি রেকর্ড করেনি। উপরন্তু আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।

মামলার ১ম আসামি সুমন চৌকিদারের বাবা ও মামলার ৩নং আসামি সিরাজুল চৌকিদার বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট আমাদের পক্ষে তবে পুলিশ চার্জশিট লিখেছে বাদীর পক্ষে।

তাদের দাবি, মেডিকেল রিপোর্টে গণধর্ষণের কথা উল্লেখ ছিল না। তবে শরীরে আঘাত আছে বলা হয়েছে। কিন্তু কিসের আঘাত সেটা উল্লেখ করা নেই। তাদের ফাঁসানোর জন্যই মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে টালবাহানা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ জানান, সীমা হত্যার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৮ জুলাই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলা এখন বিচারাধীন।
আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ওই মামলায় ৮ জন আসামি। এর মধ্যে ৩ জন জামিনে রয়েছেন, ৩ জন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল এবং বাকি দু’জন পালাতক। পলাতকদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সীমা হত্যার ঘটনায় আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিয়ে শাস্তি পেয়েছেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. শাহ মো. মোজাহিদুল ইসলাম। এ নিয়ে তাকে হাইকোর্টে তলব করা হলে নিঃশর্ত ক্ষমা চান সিভিল সার্জন।