Home শিক্ষা উৎসবের জন্য প্রস্তুত ৩৫ কোটি বই

উৎসবের জন্য প্রস্তুত ৩৫ কোটি বই

84
0
SHARE

আসছে নতুন বছরের শুরুতে এবারও ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নতুন বই। আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৭ জন ছাত্রছাত্রীর হাতে ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৭টি বই তুলে দেবে সরকার। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই নববর্ষেরই যেন এক অনন্য উপহার। গত দশ বছরের ধারাবাহিকতায় পয়লা জানুয়ারি সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে বই উৎসবের।

রেওয়াজ অনুযায়ী রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে এ বই উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের। উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা হবে শিক্ষার্থীদের মন। জানা গেছে, উৎসবের লক্ষ্যে সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নতুন বই।

ডিসেম্বরের মধ্যেই উপজেলা থেকে দেশের সব স্কুল-মাদ্রাসায় নতুন বই পৌঁছে যাবে। উপজেলা পর্যায়ে ইতিমধ্যে বই পৌঁছে যাওয়ায় দুর্গম ও চরাঞ্চলেও বছরের প্রথম দিনেই বই পাবে ছাত্রছাত্রীরা। উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহকৃত বই পরিদর্শনের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছে এনসিটিবি। কর্মকর্তারা সারা দেশের শিক্ষা অফিস ইতিমধ্যে পরিদর্শনও করেছেন বলে জানা গেছে। নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা পর্যায়ে বই পৌঁছে গেছে।

জেলার অধীন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নতুন বই পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই সব স্কুল-মাদ্রাসায় বই পৌঁছে যাবে। তথ্যমতে, আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২০) প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৬টি, প্রাথমিক পর্যায়ে ৯ কোটি ৮৫ লাখ ৫ হাজার ৪৮০টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে ২৪ কোটি ৮৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৩৪টি বই। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে ২ লাখ ৩০ হাজার ১০৩টি বই
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্রেইল বই বিতরণ করা হবে ৯ হাজার ৫০৪টি। কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই বিতরণের পাশাপাশি খাতাসহ নানা শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। সব শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষাকে মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে গত ২০১০ সাল থেকে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানুয়ারির প্রথম দিন বই বিতরণ করে আসছে সরকার। ২০১৭ সাল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বই বিতরণ করা হচ্ছে। একই বছর থেকে পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (চাকমা, মারমা, সাদ্রি, ত্রিপুরা ও গারো) শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ চলছে। ২০১০ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ১০ বছরে ইতিমধ্যে মোট ২৯৬ কোটি ৮ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, সম্পূর্ণ দেশীয় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এবার বইগুলো ছাপানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সারা দেশের উপজেলায় নতুন বই পৌঁছে গেছে।
বছরের প্রথম দিনে উৎসব করে এসব বই বিতরণ করা হবে। সারা দেশে বইয়ের কোনো ঘাটতি হবে না।

তিনি বলেন, বিনামূল্যের এ বই কেউ টাকা দিয়ে কিনবেন না। এনসিটিবির নির্ধারিত বইয়ের বাইরে অন্য কোনো বইও কেনার দরকার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ছাপা কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, বইয়ের কাগজের মান ভালো। বইগুলো এবারও আকর্ষণীয় ও রঙিন করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে নানা ভুল, অসঙ্গতি পরিমার্জন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।