Home আন্তর্জাতিক মোদি-শাহ’র প্রচার ব্যর্থ, ঝাড়খণ্ডে ৮১ আসনে বিজেপির ২৫!

মোদি-শাহ’র প্রচার ব্যর্থ, ঝাড়খণ্ডে ৮১ আসনে বিজেপির ২৫!

49
0
SHARE

ভারতের ঝাড়খণ্ডের পাঁচ দফার ভোটে মোট নয় বার প্রচারে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যজুড়ে তার বিশাল কাটআউট, ফ্লেক্স। রাঁচীতে বসে বিজেপি নেতারা দাবি করেছিলেন, মোদি-ম্যাজিকে ভর করেই ফের ক্ষমতায় আসবেন তারা।

যেমনটা হয়েছে কয়েক মাস আগের লোকসভা নির্বাচনে।

১৪টি লোকসভা আসনের ১১টিতেই জিতেছে বিজেপি। একটিতে তৎকালীন জোটসঙ্গী আজসু। বিজেপি নেতারা মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে বলেছিলেন, ‘‘আব কি বার, ৬৫ পার।

’’
সোমবার ফলপ্রকাশের পরে দেখা গেল, ৮১ আসনের মধ্যে বিজেপির ঝুলিতে এসেছে ২৫টি। গত বারের থেকে ১২টি কম। বিজেপি ছেড়ে নির্দল হিসেবে দাঁড়ানো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা সরযূ রাইয়ের কাছে হেরেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস।

অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) জোট পেয়েছে ৪৭টি আসন। তারমধ্যে হেমন্ত সোরেনের দল একাই ৩০টি।

কংগ্রেসের আসন ১৬, আরজেডির ১।
এদিন ভোটের হাওয়া স্পষ্ট হওয়ার পরে সংবাদ সম্মেলনে হার স্বীকার করে নেন রঘুবর। তিনি জানান, ‘‘এটা আমার হার, বিজেপির নয়। ’’

নরেন্দ্র মোদির মতোই রাজ্যে নয় বার প্রচারে এসেছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ নিজেও। দু’জনেই প্রচার করেছেন কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, রামমন্দির নির্মাণ, তিন তালাক রদ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) চালু করার সাফল্য গাথা। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, সেই প্রচারকে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে হেমন্তের ‘জল-জঙ্গল-জমি’-র অধিকারের লড়াই।

বিজেপির একটি সূত্র রাতে জানিয়েছে, মোদি-শাহ যে-সব জায়গায় জনসভা করেছিলেন, তার বেশির ভাগ এলাকাতেই দল হেরেছে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধেও ঝাড়খণ্ডবাসী ভোট দিয়েছেন বলে অভিমত পর্যবেক্ষকদের। এই বিল পাশ হওয়ার পরে দু’দফায় ১৮টি আসনে ভোট হয়েছিল রাজ্যে। রাত পর্যন্ত পাওয়া হিসেবে এর মধ্যে ১২টিতেই ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির।

এই অবস্থায় বিজেপির শেষ ভরসা ছিল দু’টি। আদিবাসী এলাকায় আরএসএস-এর সংগঠন এবং তাদের জনসেবামূলক প্রকল্প। আর মোদি-ম্যাজিক কিন্তু কাজে আসেনি কিছুই।

সোমবার রাঁচির বিজেপি নেতারা বলেন, এতটা খারাপ ফল তারা আশা করেননি। তবে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু উল্টো দিকে সবাই এক জোট হওয়ায় সব হিসেব গোলমাল হয়ে গেছে।

গত বারের বিধানসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছিল ৩৭টি আসন। পরে বাবুলাল মরান্ডির জেভিএম-এর ছয়জন বিধায়ককে দলে টেনে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৪৩। সঙ্গে জোটসঙ্গী আজসু-র ৫। এবার তারা প্রায় অর্ধেক।