Home জাতীয় বিজয় দিবসে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের কথাও জানাতে হবে পুলিশকে

বিজয় দিবসে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের কথাও জানাতে হবে পুলিশকে

11
0
SHARE

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরোয়াভাবে অনুষ্ঠান করতে চাইলে যে কেউ করতে পারবে। তবে সে জন্য আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, এ ছাড়া নিজেরা কিছু করতে চাইলে নিরাপত্তাবাহিনীকে জানিয়ে করতে হবে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবসটি পালন করতে। আজ সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান বিজয় দিবস ২০২০ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নকল্পে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি মহান বিজয় দিবসে আনন্দের দিনে লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসবেন। বেরিয়ে আসলে আমরা তাদের নিরাপত্তা দেব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে চলবে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিজয় দিবসে যেসব কর্মসূচি দিয়েছে সেগুলো যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালনের জন্য সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইনডোর বা ঘরোয়া অনুষ্ঠান যারা করতে চান তারা করতে পারবেন। কিন্তু সেই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে জানাতে হবে। যাতে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পাশে থেকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কোথায় (বিজয় দিবসের ঘরোয়া অনুষ্ঠান) করছেন, কীভাবে করছেন, কতজনের আয়োজন! কারা কারা সেই অনুষ্ঠানে থাকবেন! অনুষ্ঠানগুলোতে যাতে নাশকতা না করতে পারে সে জন্য দেশব্যাপী গোয়েন্দা কার্যক্রম…গোয়েন্দারা তাদের মতামত দিয়েছেন। গোয়েন্দাদের মতামত মাথায় রেখে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করবেন। সেই অনুযায়ী তারা কাজ করছেন।’

বিজয় দিবসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক মাপ ও রঙের জাতীয় পতাকা সঠিকভাবে উত্তোলন করতে হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গমানাগমন ও পুষ্পস্তবক অর্পণকালীন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রত্যেকবার যেভাবে নেয়া হয়, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঠিক সেভাবেই থাকবে।’

কূটনৈতিকদের যারা স্মৃতিসৌধে যাবেন প্রতিবারের মতো তাদের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘স্মৃতিসৌধ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকবে। ঢাকা থেকে সাভার যাওয়ার সব রাস্তায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে। রাস্তাঘাটগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের যে কোনো উপাসনালয় যেমন মন্দির, মসজিদ, গির্জা ও পেগোডাতে বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাত হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মার শান্তি ও সমৃদ্ধি কমনা করা হবে। একই সঙ্গে বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, কারাগার, হাসপাতালগুলোয় বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।