Home জাতীয় খাদ্যের অপচয় যেন না হয় : প্রধানমন্ত্রী

খাদ্যের অপচয় যেন না হয় : প্রধানমন্ত্রী

11
0
SHARE

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারা বিশ্বে অনেক খাদ্যের অপচয় হয়। আমাদের তাই মাথায় রাখতে হবে খাদ্যের যেন অপচয় না হয়। সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে গবেষণা করে করণীয় বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে।

আজ শনিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২১’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশী দেশ তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। কারণ আমার নিজের দেশের সম্পদ আমি অন্যের কাছে বিক্রি করার আগে আমার কথা ছিল আগে দেশের মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ হবে, ৫০ বছরের মজুদ থাকবে।

সরকারপ্রধান বলেন, তার পর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এ কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু দেশ বেঁচে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটা হলো বাস্তব।

এ সময় খাদ্য উৎপাদন ও কৃষির আধুনিকায়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে তা কৃষিবিদদেরই অবদান।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমান বিশ্বে পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, ধান ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে আমাদের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৩ হাজার টন হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষিতে গবেষণার ফলে এখন অনেক দেশি-বিদেশি ফল, তরি-তরকারি উৎপাদন হচ্ছে। এখন ১২ মাস সব সবজি পাওয়া যাচ্ছে। অনেক বিদেশি ফল এখন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে, এটা কৃষিবিদদেরই অবদান। এক্ষেত্রে যত দূর সম্ভব আমরা সহযোগিতা দিচ্ছি। সার-বিদ্যুৎ সব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছি।

২১০০ সাল পর্যন্ত খাদ্য উৎপাদন ঠিক রাখতে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রথমবার ক্ষমতায় এসে খাদ্য নিয়ে গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেয়, সেই সঙ্গে বন্যা ও খরা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবনের ওপর জোর দেয়। সরকার ক্রমাগত কৃষিখাতের গবেষণায় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সাল থেকে কৃষি খাতের জন্য নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল এখন বাংলাদেশ পাচ্ছে। পণ্য সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের প্রতিও নজর দিতে হবে।