Home খেলা সেল্টাকে হারিয়ে সুপার কাপের পথে বার্সা, শঙ্কায় আরাউহো

সেল্টাকে হারিয়ে সুপার কাপের পথে বার্সা, শঙ্কায় আরাউহো

4
0
SHARE

লিগ শিরোপা আগেই হাতছাড়া হয়েছে চার দলের স্প্যানিশ সুপার কাপে জায়গা পেতে রানার্সআপ হয়ে লিগ শেষ করতে হবে। ঘরের মাঠে সেল্টা ভিগোকে হারিয়ে সে দৌড়ে ভালোই এগিয়ে গেল বার্সেলোনা। যদিও বার্সেলোনার রক্ষণের মারত্মক ভুলে একটি গোল শোধ করে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল সেল্টা। কিন্তু তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এলো জেসন মুরিয়োর লাল কার্ড। শেষ আধ ঘণ্টার বেশি সময় একজন কম নিয়ে খেলা দলটি সেভাবে স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জই জানাতে পারল না।

মঙ্গলবার (১০ মে) রাতে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুয়ে এমেরিক অবামেয়াংয়ের জোড়া আর মেম্ফিস ডিপাইয়ের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সা। সেল্টার হয়ে গোল করেন ইয়াগো আসপাস। লিগে দুই ম্যাচ পর সেল্টার বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেল তারা।

বার্সাকে পেলে যেন সেল্টার সেরাটা বেরিয়ে আসে। গতবার কাম্প ন্যুয়ে জিতেছিল ২-১ ব্যবধান। চলতি আসরে ঘরের মাঠে ড্র করে ৩-৩ ব্যবধানে। মঙ্গলবার মুখোমুখি হওয়ার আগে সবশেষ ছয় ম্যাচে কাতালান ক্লাবটির বিপক্ষে তাদের জয়-পরাজয়-ড্র দুটি করে।

এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে ৩৬ ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে কাতালান ক্লাবটি। ৩৫ ম্যাচে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার ট্রফি আগেই জিতে নিয়েছে বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।

ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের ৩০ মিনিটে এগিয়ে যায় কাতালানরা। গোলে দারুণ অবদান দেম্বেলের। মাঝমাঠে বল পেয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে আসা দুই জনকে পায়ের কারিকুরিতে পেছনে ফেলে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যান ডি বক্সে। নিজে শট না নিয়ে চমৎকার কাট ব্যাকে খুঁজে নেন অরক্ষিত মেম্ফিসকে। তার শটে ঝাঁপিয়ে গ্লাভস ছোয়ালেও জালে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি সেল্টা গোলরক্ষক।

প্রথম গোলের ১১ মিনিট পরই ব্যবধান দিগুণ করেন অবামেয়াং। ডি বক্স থেকে মেম্ফিসের ক্রসে ততটা জোর ছিল না। তবে আগেই মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ঠিক মতো শট নিতে পারেননি সেল্টার মেক্সিকান ডিফেন্ডার নেস্তর আরাউহো। তার কাছাকাছিই থাকা অবামেয়াংয়েও খুব একটা জোরে শট নিতে পারেননি তবে সেটা কাছের পোস্ট দিয়ে জালে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্কোর লাইন ৩-০ করে বার্সেলোনা। ৪৮তম মিনিটের এই গোলেও দারুণ অবদান দেম্বেলের। ডানদিক থেকে বল পায়ে ডি বক্সে ঢুকে খুঁজে নেন অরক্ষিত অবামেয়াংকে। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে বাকিটা সারেন গ্যাবনের এই ফরোয়ার্ড।

তৃতীয় গোলের দুই মিনিট পরই বার্সেলোনার ডিফেন্ডারদের দৃষ্টিকটু ভুলে ব্যবধান কমান ইয়াগো আসপাস। সফরকারীরা আক্রমণে ওঠার সময় বিস্ময়করভাবে তাকে পাহারায় রাখেনি স্বাগিতকদের কেউই। গোল মুখে গালহার্দোর পাস পেয়ে অনায়াসে বাকিটা সারেন আসপাস। খুব বেশি কিছু করার ছিল না টের স্টেগেনের।

এই গোলে বড় একটা ঝাঁকুনিই খায় বার্সলোনা। রক্ষণ নিয়ে বাড়তি ভাবনায় প্রায় সবাই নেমে আসে নিচে। তবে পরিস্থিতি বদলি যায় ৫৮তম মিনিটে সেল্টা ১০ জনের দলে পরিণত হলে। স্বাগতিকদের প্রতি আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টায় নিজেদের ডি বক্সের ঠিক সামনে মেম্ফিসকে ফাউল করে ঠেকিয়ে সরাসরি লালকার্ড দেখেন মুরিয়ো। বদলি নামার স্রেফ ১৩ মিনিট পরই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

একই সঙ্গে বলে হেড করার চেষ্টায় মাথায় আঘাত পান গাভি ও রোনালদ আরাউহো। শুরুতে মনে হয়নি তেমন কিছু হয়েছে উরুগুয়ের ডিফেন্ডারের। তবে একটু পরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত এগিয়ে যান বার্সেলোনার চিকিৎসকরা। অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে মাঠের বাইরে ও পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আরাউহোকে। ১০ জন নিয়ে খেলে বাকি সময়টা আর কিছু করতে পারেনি সেল্টা। উল্টো আরাউহোর ঘটনায় মানসিক ধাক্কা না খেলে বরং ব্যবধান আরও বাড়াতেই পারত বার্সেলোনা।

চার দলের স্প্যানিশ সুপার কাপে খেলতে লিগে রানার্সআপ হতেই হবে বার্সেলোনাকে। এই জয়ে সেই পথে বেশ এগিয়ে গেল তারা। ৩৬ ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে দৃঢ় করল নিজেদের অবস্থান। রানার্সআপ হওয়ার দৌড়ে থাকা সেভিয়া (৬৫) ও আতলেতিকো মাদ্রিদের (৬৪) সঙ্গে বাড়িয়ে নিল ব্যবধান। এই দুই দল একটি করে ম্যাচ কম খেলেছে।

৩৫ ম্যাচে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি শীর্ষে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলা রিয়াল মাদ্রিদ।