Home জাতীয় পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসি ক্যামেরা, থাকবে স্থায়ী আনসার

পূজামণ্ডপে বাধ্যতামূলক সিসি ক্যামেরা, থাকবে স্থায়ী আনসার

14
0
SHARE

আসন্ন দুর্গাপূজায় দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সেইসঙ্গে মণ্ডপগুলোতে স্থায়ীভাবে থাকবে আনসার সদস্য।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্তসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩২ হাজার ১৬৮টি। আমি তাদের (পূজা উদযাপন কমিটি) অনুরোধ করেছি এটা যেন আর না বাড়ে। যদি কমে আমাদের জন্য সুবিধা। দুই-চারটা কমতে-বাড়তে পারে তারা এমনটা জানিয়েছে।

তিন বলেন, এসব পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পূজামণ্ডপের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী (এটা পুলিশ হতে পারে, আনসার হতে পারে) যেখানে দায়িত্বে থাকবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রত্যেকটা পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছি। বলেছি, তাদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক যেন সেখানে থাকে। পুলিশ যদি যায় তারা যাতে নিশ্চিত হতে পারে, তারা (স্বেচ্ছাসেবক) সেখানে আছে।

সিটি ক্যামেরা স্থাপনে সরকার সহায়তা করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা তাদের বলেছি আপনারা এমন জায়গায় করবেন না, যেখানে গাড়ি-ঘোড়া না যায়। কিছু ব্যবস্থা তো আমাদের থাকতেই হবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। সিসি ক্যামেরার বেশি দামও না এখন।

গত বছর কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল, এর পরিপ্রেক্ষিতে এ বছর পূজা উপলক্ষে বিশেষ কি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি মনেকরি কোনো পূজামণ্ডপে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেবো।

‌‘গত বছর কোভিডের জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ পুলিশ রেখেছিলাম। এবার আমরা বলছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে আনসার বাহিনী স্থায়ীভাবে থাকবে। তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সব মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক রাখবেন। তাদের আর্ম ব্যান্ড থাকবে, যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি কারা স্বেচ্ছাসেবক। সে জন্য আর্ন ব্যান্ড পরার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।

‘বড় বড় পূজামণ্ডপে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী টহলে থাকবে। পূজামণ্ডপে আসা নারীর-শিশু দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারী ও শিশুদের উত্ত্যক্তকরণ, ইভটিজিং, মাদক সেবনরোধে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রোধে পূজা উদযাপন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলবে। যে কোনো ইমারজেন্সিতে ৯৯৯ জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করতে অনুরোধ করা হয়েছে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পূজামণ্ডপ কেন্দ্র করে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার নবাবপুরসহ সারাদেশে যেন যানজট সৃষ্টি না হয়, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার, গুজব রোধে, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করা হবে। এই ধরনের অপচেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থার মুখোমুখি হবে।

তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে পুরুষ-নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও নির্গমন পথ রাখতে হবে। পুলিশ সদরদপ্তর বিভাগীয় জেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর পূজা উদযাপন কমিটি এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে থাকবে। আজান, নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী মন্ডপগুলোতে পূজা চলাকালীন এবং বিসর্জনের সময় যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুয়া ও মাদক সেবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পূজামণ্ডপে অগ্নিনির্বাপকসহ যেকোনো দুর্ঘটনারোধে ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত থাকবে। উৎসব চলাকালে ঢাকাসহ সারাদেশে বিসর্জনের সময় ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও ডুবুরি থাকবে। উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত পূজামণ্ডপে কোস্টগার্ড নিরাপত্তা দেবে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের সঙ্গে থাকবে। দুষ্কৃতিকারীদের অশুভ তৎপরতারোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন করোনা ভাইরাস আবার দেখা যাচ্ছে। সে কারণে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য আমাদের এখান থেকেও অনুরোধ করা হয়েছে।