Home জাতীয় কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা নয় : প্রধানমন্ত্রী

কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পকারখানা নয় : প্রধানমন্ত্রী

9
0
SHARE

যেখানে-সেখানে শিল্পকারখানা করা যাবে না বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ কৃষি প্রধান দেশ, কৃষি জমি আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে, রক্ষা করতে হবে। কারণ আমাদের দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে কৃষি জমি রক্ষার পাশাপাশি শিল্প কারখানাও গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বা জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনীতে এ কথা বলেন তিনি।
গণবভন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে দক্ষিণ এশিয়ার বাজার ধরতে চায় সরকার। সারা দেশে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বিনিয়োগবান্ধব দেশ বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে, বিভিন্ন দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি শিল্প কারখানা গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে শেষ হাসিনা বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ বাংলাদেশ। তাই কৃষি জমি রক্ষা করতে হবে। এর পাশাপাশি শিল্প কারখানাও গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, জাপান আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। মেট্রোরেল বিমানবন্দরসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নির্মাণ করে দিচ্ছে তারা।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধামাফিক অঞ্চল দেয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। পাশাপাশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে পরিবেশবান্ধব করে তোলার জোর প্রয়াস চালিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা। কারণ আমরা সব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি। বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সেবা ও পরিসেবা অনুমোদনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন জটিলতা থাকলেও আমরা সেটা নিরসন করছি। তার ওপর বাংলাদেশ প্রাচ্য ও প্রাচ্যাত্যের মেলবন্ধন। এখান থেকে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সমুদ্রপথ, আকাশ ও রেলপথ ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সুযোগ আছে।
তিনি বলেন, আমাদের ভৌগলিক অবস্থার কারণে বাংলাদেশ ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার হতে পারে। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তো আছেই। আমি আশা করি, জাপানের উদ্যোগটা অন্যান্যদেরও আগ্রহী করবে। জাপানকে ধন্যবাদ, তাদের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বে অনেক প্রকল্প আছে। ব্যবসাবান্ধব আরও অনেক প্রকল্প হবে আশা করি।
নারায়ণগঞ্জে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। সিঙ্গারের মতো একটি স্বনামধন্য বহুজাতিক কোম্পানি এরই মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করেছে এবং জার্মান কোম্পানি রুডলফের সঙ্গেও একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম উদ্বোধনের দিনে আরও দুটি জাপানি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া আরও ৩০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশের আরও ১০টি প্রতিষ্ঠান এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এর আগে বোরবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় বেজা কার্যালয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের (ডিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান হারুন জানান, জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে চালু হয়ে গেলে শিগগিরই আরও কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে। তাহলে এ জোনে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি লোকের প্রাথমিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। সিঙ্গার প্রাথমিক বিনিয়োগ করবে ৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং রাসায়নিক কোম্পানি রুডলফ ৭ মিলিয়ন ডলার প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগ করবে। ‘রেড ক্যাটাগরি’র অধীনে কোনও শিল্প বা সংস্থাকে কোনও অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের শিল্প স্থাপনের অনুমতি দেয়া হবে না এবং প্রতিটি শিল্পকে ইটিপি স্থাপন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি কেন্দ্রীয় ইটিপি স্থাপন করবে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরেকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সরকার জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সিকে (জাইকা) অনুরোধ জানিয়েছে। জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি আলাদা ওএসএস সেন্টার এবং একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পর বেজা এবং জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন এখানে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলটি স্থাপন করছে। দেশব্যাপী পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৭৭টি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৪১ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২২ হাজার ১৭৩.১৭৭ মিলিয়ন ডলারের সামগ্রিক বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে।
এ পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হলো: মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর (বিএসএমএসএন), জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা) এবং শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল। এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।