Home জাতীয় আমাদের সাহিত্যের আলাদা একটা মাধুর্য আছে : প্রধানমন্ত্রী

আমাদের সাহিত্যের আলাদা একটা মাধুর্য আছে : প্রধানমন্ত্রী

27
0
SHARE

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সাহিত্যের আলাদা একটা মাধুর্য আছে। আমাদের দেশের নদী-নালা, খাল-বিল, বন, পাখির ডাক সব কিছুর মধ্যেই আলাদা একটা সুর আছে, ছন্দ আছে। বিদেশিরা আমাদের ভাষা সম্পর্কে আরও জানতে পারুক সেটাই আমরা চাই। জাতির পিতা একবার আন্তর্জাতিক সাহিত্য মেলা আয়োজন করেছিলেন। আমি মনে করি, এ রকম বিশেষ সাহিত্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেবে বাংলা একাডেমি।
আজ বুধবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলা-২০২৩ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, যখন থেকে বইমেলা শুরু তখন থেকেই মেলায় আসতাম। সকাল থেকে সারাদিন এখানে ঘুরঘুর করতাম। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে পায়ে শিকল পরে যায়, নিয়মের মধ্যে আসতে হয়, আবার চলে যেতে হয়। আগের মতো সেই স্বাধীনতাটা পাচ্ছি না। সেটা আর উপভোগ করতে পারি না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বটতলায় অনেক সময় কাটিয়েছি আমরা। কোভিডের কারণে দুই বছর সরাসরি মেলায় আসতে পারিনি। আজকে দীর্ঘদিন পর আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। যদিও আগের মতো সেই স্বাধীনতা পাচ্ছি না, তারপরও বাংলা একাডেমিতে আসতে পারলাম। এটাই হচ্ছে সব চাইতে বড় পাওয়া। এই প্রাঙ্গণে আমার সবসময় পদচারণা ছিল। আমি সবসময় বাংলা একাডেমির লাইব্রেরি ব্যবহার করতাম।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, এর প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালে ২ মার্চ সলিমউল্লাহ মুসলিম হলে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। একটা বিজাতীয় ভাষা, আবার সেটাকে যখন প্রতিবাদ করা হলো তখন বাংলা ভাষাকে আরবি বা উর্দু হরফে লেখার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। সেই অধ্যায় আমাদের দেখতে হয়েছে। আবার পরবর্তীকালে ল্যাটিন হরফে লেখতে হবে। বাঙালি কোনোটাই মানেনি। আমরা সেটা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, সেটা নিয়ে এগিয়ে যাব।
তিনি বলেন, এখন কেউ বই পড়তে চায় না। তাই হাঁটতে-চলতেও যাতে শুনতে পারে এমন অডিও বই করা উচিত, ডিজিটাল ভার্শন করা উচিত। অনলাইনে লাইব্রেরির সুবিধা নেওয়া যেতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে। এর ফলে আমাদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব এসে গেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষার বিস্তার বাড়াতে হবে। এর জন্য আরও বেশি করে অনুবাদ করতে হবে। এখন বছরে একটা দুইটা এই অনুবাদ হয়। এটা বাড়াতে হবে। মানসম্মত ইংরেজিতে, বিভিন্ন ভাষায় এই অনুবাদ হতে হবে।
তরুণদের সাহিত্য-সংকৃতি চর্চা এবং খেলাধুলায় আগ্রহী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি যতবার ভাষণ দিয়েছি জাতিসংঘে, বাংলায় ভাষণ দিয়েছি।
তিনি সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে বলেন, অনেক দেশেই বইমেলা হয়। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকেও যদি অংশগ্রহণ থাকে। আমাদের ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে যত বেশি মানুষ জানতে পারবে তত ভালো। আদালতে বাংলায় রায় দেওয়া শুরু হয়েছে। সবক্ষেত্রে আমাদের এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত।…..অর্থনৈতিক চিন্তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চিন্তাও করা উচিত। ১৯৪৮ এ যে সংগ্রামের শুরু…..ভাষার অধিকার থেকেই কিন্তু আমাদের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে, ভাষা সাহিত্যেরও উৎকর্ষ ঘটাতে হবে।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। এই সময়ে অর্থনীতিতে, সাহিত্য চর্চায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু সাতিহ্যটা আরও বেশি দরকার। আকর্ষণীয় বই দরকার।
বাংলা একাডেমির সভাপতি সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহাম্মদ নুরুল হুদা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন প্রমুখ।
এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য- ‘পড়ো বই, গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে দর্শক, ক্রেতা ও পাঠকরা রাত সাড়ে ৮টার পরে মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবেন না। সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দুপুরে খাবার ও নামাজের জন্য এক ঘণ্টা বিরতি থাকবে।
এবারের মেলায় ৬০১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯০১টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমি মাঠে ১১২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৬৫টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৩৬টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া এ বছর মোট ৩৮টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ১৫৩টি স্টল রয়েছে, যা ২০২২ সালে ছিল ১২৭টি, ২০২১ সালে ১৪০টি এবং ২০২০ সালে ১৫৫টি। অন্যদিকে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বইমেলা ভেন্যু ও এর আশেপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। মেলার ১১ লাখ বর্গফুট জায়গার প্রতিটি স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।